মাতারবাড়ি প্রকল্প ও ভারতের কানেক্টিভিটি নিয়ে কেন বাড়ছে উদ্বেগ?
মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে ‘বিগ-বি’ বা বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ ইনিশিয়েটিভ। জাপানের সহায়তায় এই প্রকল্পের মাধ্যমে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম অঞ্চলকে একটি বৈশ্বিক রফতানি হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর আওতায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র, এলএনজি টার্মিনাল ও শিল্পাঞ্চল স্থাপনের কাজ চলছে।
জাপান-বাংলাদেশ যৌথ ঘোষণায় কানেক্টিভিটি, দুর্যোগ মোকাবিলা ও ছয় বিলিয়ন ডলারের বেশি জাপানি বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, মাতারবাড়িকে কেন্দ্র করে জ্বালানি ও লজিস্টিকস সুবিধা নিশ্চিত করে একটি পরিকল্পিত শিল্প নগরী গড়ার কাজ চলছে। এতে প্রায় আটাশ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে এই প্রকল্পের কানেক্টিভিটি সুবিধা নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক সংশয় দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভারত ট্রান্সশিপমেন্ট বা করিডোর সুবিধা পাবে কি না, তা নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর মতো রাজনৈতিক দলগুলো প্রশ্ন তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বড় প্রকল্পে জাতীয় রাজনৈতিক ঐকমত্য থাকা জরুরি, অন্যথায় তা বাস্তবায়নে বড় বাধা আসতে পারে।
অর্থনীতিবিদ খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের মতে, এই প্রকল্পে প্রায় ৬০-৬৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে, যার বড় অংশই বেসরকারি খাত থেকে আসবে। তবে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই প্রকল্পকে ঘিরে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের প্রভাব নিয়েও নানা আলোচনা চলছে। ফলে মাতারবাড়ি কেবল একটি অর্থনৈতিক প্রকল্প নয়, বরং আঞ্চলিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।














