এলএনজি নির্ভরতায় বড় ঝুঁকিতে দেশের জ্বালানি খাত
এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা বাংলাদেশের জ্বালানি পরিকল্পনার অন্যতম বড় দুর্বলতা। চালু হওয়া তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রেও প্রাক্-নির্মাণ কার্যক্রম শুরু থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে গড়ে সাড়ে সাত বছর সময় লেগেছে। এর একটি উদাহরণ রিলায়ান্স মেঘনাঘাটের ৭১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, যা ২০১৬ সালে শুরু হয়ে নানা জটিলতা পেরিয়ে উৎপাদনে যেতে ব্যর্থ হয়।
গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য সরবরাহ ব্যয়ের তুলনায় কম থাকায় পেট্রোবাংলা ও বিপিডিবির ওপর ভর্তুকির চাপ ক্রমেই বাড়ছে। ২০১৯ সালে বিপিডিবির বার্ষিক ভর্তুকি আট হাজার কোটি টাকা থাকলেও ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৩৭ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত পেট্রোবাংলার পাওনা ২৮ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যার ১৬ হাজার কোটি টাকাই বিপিডিবির বকেয়া।
আইইইএফএর প্রতিবেদনে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ও গ্যাস সরবরাহের মধ্যকার ব্যবধানের বিষয়টি উঠে এসেছে। ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৩৪ শতাংশ বাড়লেও গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে মাত্র ১৭ শতাংশ। গ্যাস রেশনিংয়ের কারণে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র এমনকি ইউনিক মেঘনাঘাটের ৫৮৪ মেগাওয়াটের কেন্দ্রও দীর্ঘদিন শূন্য উৎপাদনে ছিল।
সঙ্কট মোকাবেলায় কুতুবদিয়ায় দৈনিক ৪ দশমিক ৫ এমটিপিএ ক্ষমতার তৃতীয় ভাসমান টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ীতে ৭ দশমিক ৫ এমটিপিএ ক্ষমতার স্থলভিত্তিক টার্মিনালের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুধু টার্মিনাল নির্মাণ করলেই গ্যাসের প্রাপ্যতা বাড়বে না, এর জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা ও নির্ভরযোগ্য পাইপলাইন অবকাঠামো। বিকল্প হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো উৎসগুলো কাজে লাগানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।














