মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল: চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন মোড়
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয় এবং কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ লাভ বেইজিংয়ের জন্য একই সঙ্গে সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই জয় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচলিত ধারার বাইরের পররাষ্ট্রনীতিতে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা এখন ডেমোক্র্যাটদের হাতে তুলে দিয়েছে।
সাংহাইয়ের ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ডিন উ সিনবো বলেন, ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা সীমিত করলে বেইজিংয়ের সঙ্গে আলোচনায় শুল্ককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ কমে যাবে। তবে ব্যবসায়ী মহলে এই শুল্কনীতির জনপ্রিয়তা ডেমোক্র্যাটদের বিবেচনায় নিতে হবে।
তাইওয়ান ইস্যু দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ নিল শিয়ারিং। ওয়াশিংটন তাইওয়ানের প্রধান নিরাপত্তা সহযোগী হিসেবে কয়েক বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করলেও, ট্রাম্পের কিছু পদক্ষেপ ও অস্ত্র সরবরাহ স্থগিতের ঘটনায় বেইজিং দ্বীপটির ওপর চাপ বাড়ানোর সুযোগ নিতে পারে।
এসওএএস চায়না ইনস্টিটিউটের পরিচালক স্টিভ সাং মনে করেন, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানো ট্রাম্পকে বেইজিং আরও চাপে ফেলার চেষ্টা করতে পারে। তবে বেইজিং হিসাব-নিকাশ করেই পদক্ষেপ নেবে যাতে ট্রাম্প কোনো দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ না করেন।
ওয়াশিংটনের ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের ফেলো প্যাট্রিসিয়া কিম বলেন, মার্কিন ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের ব্যয় বাড়ার ঝুঁকি থাকলে চীনের ওপর চাপ বৃদ্ধিতে কংগ্রেসের সমর্থন কম থাকতে পারে। বেইজিংয়ের দৃষ্টিতে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের মাধ্যমে সম্পর্ক বজায় রাখাই হবে সবচেয়ে কম ব্যয়বহুল উপায়।
ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কংগ্রেস আগামী বছর ট্রাম্পকে তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি পুনরায় শুরু করতে বাধ্য করতে পারে বলে ধারণা করছেন উ সিনবো। তবে বিশ্লেষক ড্রু থম্পসন মনে করেন, ট্রাম্প চাইলে কংগ্রেসের এমন কোনো আইন উপেক্ষা করতে পারেন বা তাতে ভেটো দিতে পারেন।















