চতুর্থ মেয়াদে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন লুলা
দারিদ্র্য থেকে উঠে আসা ব্রাজিলের রাজনীতির প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব লুলা দা সিলভা নজিরবিহীনভাবে চতুর্থ মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। চরম দারিদ্র্য, কারাবাস ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতা পেরিয়ে প্রায় চার বছর আগে ক্ষমতায় ফেরা এই নেতা আবারও নিজের রাজনৈতিক স্থায়িত্ব প্রমাণ করলেন। ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শুষ্ক পার্নামবুকো রাজ্যে নিরক্ষর কৃষক পরিবারের আট সন্তানের মধ্যে সপ্তম হিসেবে জন্ম নেওয়া লুলার শৈশব কেটেছে চরম hardship-এর মধ্য দিয়ে।
জুতা পালিশ ও চিনাবাদাম বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহের পর তিনি ধাতুশ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং একসময় শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা হয়ে ওঠেন। ১৯৬০-এর দশকে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় তাঁর একটি আঙুল কেটে যায় এবং তিনবার পরাজয়ের পর ২০০৩ সালে তিনি প্রথমবার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। ২০০৬ সালে পুনরায় নির্বাচিত হয়ে ২০১০ সালে যখন তিনি দায়িত্ব ছাড়েন, তখন পণ্যনির্ভর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সময়ে তাঁর সরকারের অধীনে প্রায় ৩ কোটি মানুষ দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেয়েছিল।
তবে বড় ধরনের দুর্নীতির কেলেঙ্কারি লুলা ও তাঁর দলকে দীর্ঘদিন তাড়া করে বেড়ায় এবং ২০১৮ সালে জাইর বলসোনারো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনের আগে লুলাকে কারাগারে পাঠানো হলেও পরে প্রক্রিয়াগত কারণে অভিযোগ বাতিল হয় ও বিচারকের পক্ষপাতদুষ্টতা সামনে আসে। বলসোনারোর আমালে গভীর হওয়া বিভাজনের পর ২০২২ সালের নির্বাচনে অতি সামান্য ব্যবধানে নাটকীয়ভাবে ক্ষমতায় ফিরে আসেন লুলা।
চলতি মাসের শুরুতে ফ্লাভিও বলসোনারোর কাছে প্রথম দফার ভোটে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকায় প্রথমে কিছুটা বিস্মিত হলেও দ্রুত ঘুরে দাঁড়ান লুলা। রোববারের এই অপ্রত্যাশিত জয় তাঁর সমর্থকদের বিস্মিত ও উচ্ছ্বসিত করেছে এবং লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ব্রাজিলকে বামপন্থী রাজনীতির একটি শক্ত ঘাঁটি হিসেবে ধরে রাখল। ঢাকা, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ বাসস জানিয়েছে, লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা জীবনের এই ঘটনাপ্রবাহকে অলৌকিক ঘটনার সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন যে এই দেশে তাঁর চেয়ে বেশি অভিজ্ঞ কোনো প্রেসিডেন্ট নেই।














