বিজ্ঞাপন
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পেলে ও ম্যারাডোনা কেন ব্যালন ডি’অর জেতেননি

জাগো বাংলাদেশ ২৪
জাগো বাংলাদেশ ২৪ ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
বিজ্ঞাপন
পেলে ও ম্যারাডোনা কেন ব্যালন ডি’অর জেতেননি পড়েছেন ১ জন

ঢাকা, ২২ অক্টোবর ২০২৬ (বাসস): বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন ২৬ অক্টোবর লন্ডন প্যালাডিয়ামে আয়োজিত ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানের জন্য। আগামী সোমবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই অনুষ্ঠানে বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের সম্মানিত করা হবে, যার মাধ্যমে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারটি তার ৭০ বছর পূর্ণ করছে। কিন্তু একটি বিস্ময়কর তথ্য হচ্ছে ফুটবল মাঠে পা রাখা সর্বকালের সেরা দুই খেলোয়াড় পেলে ও দিয়েগো ম্যারাডোনা কখনো প্রতিযোগিতামূলক ব্যালন ডি’অর জেতেননি।

১৯৫৬ সালে ফরাসি সাময়িকী ফ্রান্স ফুটবল যখন ব্যালন ডি’অর চালু করে, তখন পুরস্কারটি কেবল ইউরোপে খেলা ইউরোপীয় ফুটবলারদের জন্য নির্ধারিত ছিল। এর অর্থ হচ্ছে দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের খেলোয়াড়রা যতই অসাধারণ পারফরম্যান্স করুন না কেন, তারা এই পুরস্কারের জন্য যোগ্য বিবেচিত হতেন না। ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলে তার ক্যারিয়ারের বেশির ভাগ সময় ব্রাজিলের ক্লাব সান্তোসে খেলেছেন, ফলে নিয়ম অনুযায়ী তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই পুরস্কারটির জন্য অযোগ্য ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

ম্যারাডোনাকেও একই সমস্যায় পড়তে হয়েছিল এবং বার্সেলোনা ও নাপোলির মতো ইউরোপের বড় ক্লাবে খেললেও আর্জেন্টিনার নাগরিক হওয়ায় তিনি ব্যালন ডি’অরের জন্য বিবেচিত হননি। ১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনা যখন প্রায় একক নৈপুণ্যে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন, তখনও তাকে ব্যালন ডি’অরের জন্য বিবেচনা করা হয়নি। একইভাবে, ১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৭০ সালে তিনটি বিশ্বকাপ জেতা পেলের ভাগ্যেও জোটেনি এই পুরস্কার। সবকিছুই ছিল তখনকার নিয়মের কারণে।

১৯৯৫ সালে ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের নিয়মে বড় পরিবর্তন এনে ইউরোপীয় ক্লাবের হয়ে খেলা যেকোনো দেশের ফুটবলারকে পুরস্কারের জন্য বিবেচনার সুযোগ দেওয়া হয়। ওই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী ছিলেন লাইবেরিয়ার স্ট্রাইকার জর্জ উইয়াহ যিনি পিএসজি ও এসি মিলানের হয়ে খেলে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এই পুরস্কার জেতেন। ২০০৭ সালে নিয়ম আরও সম্প্রসারিত হলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে খেলা ফুটবলারদের জন্য পুরস্কারটি উন্মুক্ত হয়, তবে তত দিনে পেলে ও ম্যারাডোনা অনেক আগেই ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছিলেন।

তারা দুজনই ফুটবলে নিজেদের অবদানের জন্য স্বীকৃতি পেয়েছেন এবং অসাধারণ ক্যারিয়ারের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৫ সালে ম্যারাডোনাকে একটি সম্মানসূচক ব্যালন ডি’অর দেওয়া হয়। পেলেকেও ২০১৩ সালের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সম্মানসূচক ফিফা ব্যালন ডি’অর দেওয়া হয়, তবে এসব সম্মাননা ব্যালন ডি’অরের আনুষ্ঠানিক বিজয়ীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয়। আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানো লিওনেল মেসি আটবার এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পাঁচবার এই পুরস্কার জিতলেও পেলে ও ম্যারাডোনার এটি না জেতা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম কৌতূহলোদ্দীপক ঘটনা হয়ে আছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
পেলে ও ম্যারাডোনা কেন ব্যালন ডি’অর জেতেননি
0:00 / 0:00
1x