উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের দক্ষিণে বুধবার দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৬৪ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে এবং চলতি শতাব্দীতে ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনাগুলোর একটি এটি। মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় সেভিয়া শহরের সংযোগকারী রেলপথে চলতি বছরে এটি দ্বিতীয় বড় দুর্ঘটনা। রাষ্ট্রীয় রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রেনফের একটি ট্রেন স্পেনের বেসরকারি রেল কোম্পানি ইরিওর একটি ট্রেনের সঙ্গে দুর্ঘটনায় পড়ার পর মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণ স্পেনগামী প্রধান দ্রুতগতির রেলপথে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইরিও জানিয়েছে, তাদের ট্রেনটিতে চালকসহ ১৪৭ জন যাত্রী ও পাঁচজন কর্মী ছিলেন এবং রেনফের ট্রেনটি পেছন থেকে তাদের ট্রেনকে ধাক্কা দেয়। অর্তিজ নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ইরিওর ট্রেনের যাত্রীরা তাকে জানিয়েছেন সংঘর্ষের সময় তাঁদের ট্রেনটি দাঁড়িয়ে ছিল এবং তিনি দুর্ঘটনাস্থলের পরিস্থিতিকে ভয়বহ বলে বর্ণনা করেন। কাস্তিয়া-লা মানচার আঞ্চলিক সরকারের প্রধান এমিলিয়ানো গার্সিয়া-পাখে সাংবাদিকদের বলেন যে তাঁরা প্রায় ৬৪ জনের মৃত্যুর কথা বলছেন এবং এই সংখ্যা সম্ভবত আরও বাড়বে। কাস্তিয়া-লা মানচা সরকারের একজন মুখপাত্র জানান, দুর্ঘটনায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৫৮ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং এদের ১৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ দুর্ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন এবং এর আগে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি মর্মান্তিক এ ঘটনায় মর্মাহত বলে জানান। স্পেনের রাজপরিবার, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডার লেইনসহ বিভিন্ন মহল থেকে শোকবার্তা ও সহায়তার প্রস্তাব এসেছে। দুর্ঘটনার প্রতি শ্রদ্ধা ও সংহতি জানিয়ে স্পেনের ফুটবল ফেডারেশন কোপা দেল রের প্রথম পর্বের ২৪টি ম্যাচ স্থগিত করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্পেনের দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্কে বিপুল বিনিয়োগ করা হলেও চলতি বছরের জানুয়ারিতে দক্ষিণাঞ্চলীয় আদামুজ গ্রামের কাছে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে ৪৬ জন নিহত হয়েছিলেন।